দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়ের অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরাক থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সম্প্রতি দেশটির সরকারি সূত্রের বরা୍তে এই তথ্য জানা গেছে, যার মাধ্যমে মার্কিন যুদ্ধ ও লজিস্টিক সহায়তায় নিয়োজিত শেষ সদস্যটিও ইরাক ত্যাগ করেছেন। তবে এই সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। দীর্ঘ এই সামরিক উপস্থিতির সমাপ্তি উপলক্ষে ইরাকজুড়ে বিশেষ উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।
ইরাকি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দেশ যৌথভাবে ২০২৪ সালের মধ্যেই সামরিক উপস্থিতি গুটিয়ে নেওয়ার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করেছিল। পেন্টাগনের তথ্যভাণ্ডার অনুসারে, বিগত বছরগুলোতে ইরাকের মাটি ও বিভিন্ন ঘাঁটিতে প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল। রাজধানী বাগদাদের সুরক্ষিত গ্রিন জোন, বিমানবন্দর সংলগ্ন সামরিক স্থাপনা এবং কুর্দিস্তান অঞ্চলের ইরবিলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে তাদের পদচারণা ছিল। নির্ধারিত সময়সীমার আগেই গত ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা ছিল।
ইতিমধ্যে মার্কিন সেনামুক্ত হওয়া ভিক্টোরিয়া সামরিক ঘাঁটিকে ভবিষ্যতে কূটনৈতিক মিশনগুলোর প্রতিনিধিদের অভ্যর্থনা জানানোর কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে ইরাকে সামরিক অধ্যায় শুরু হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ২০১৪ সালে আইএস দমনের আন্তর্জাতিক জোয়নের অংশ হিসেবে মার্কিন বাহিনী পুনরায় দেশটিতে প্রবেশ করে। যদিও ২০১৭ সালে আইএসকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়েছিল, তবুও বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের কিছু গোপন কার্যক্রম ও হুমকি রয়ে গেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে ইরাকও নতুন নিরাপত্তা সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল। এমন উত্তপ্ত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার মাঝেই মার্কিন স্থাপনাগুলোতে নানা সময়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং নিজ দেশের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবেই এই সেনা অপসারণের ঘটনা ঘটল। সামরিক এই অবসানকে ইরাকের জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঐতিহাসিক এই মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ইরাক সরকার চারদিনের বিশেষ সাধারণ ছুটির ঘোষণা দিয়েছে। আগামী বুধবার থেকে শুরু হয়ে পরবর্তী শনিবার পর্যন্ত এই ছুটি বলবৎ থাকবে এবং দিনটিকে ‘ইরাকি সার্বভৌমত্ব দিবস’ হিসেবে উদ্যাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদির নির্দেশনায় সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শহীদদের স্মরণে বিশেষ কর্মসূচি এবং জাতীয় পতাকার রঙের ব্যাজ পরিধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
