ঢাকা ,
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. অস্ট্রেলিয়া
  4. আইন আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলাম
  7. কৃষি
  8. খেলাধুলা
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. নেদারল্যান্ডস
  12. পর্যটন
  13. বিনোদন
  14. মতামত
  15. মেক্সিকো
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘সে জেলেই মরবে’, ধর্ষণের শিকার ১০ বছরের শিশুকে বিচারকের চিঠি

Malaysia
সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ৫:৩১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ভারতের রোহিণীতে শিশু ধর্ষণের এক চাঞ্চল্যকর মামলায় বিচারক রায় ঘোষণার পর ভুক্তভোগী শিশুকে একটি সান্ত্বনার চিঠি লিখেছেন। কয়েক বছর আগে যখন শিশুটির বয়স মাত্র সাত বছর ছিল, তখন পরিচিত এক ব্যক্তি তাকে নিপীড়ন করেছিলেন। বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘ তিন বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর বর্তমানে ১০ বছর বয়সে উপনীত হওয়া শিশুটিকে এই বিশেষ চিঠি দেওয়া হয়। আদালতের এই অনন্য উদ্যোগে প্রথাগত আইনি কাঠামোর বাইরে গিয়ে বিচারক সরাসরি শিশুটির সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন এবং তার বিচার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অতিরিক্ত দায়রা বিচারক রজনী রাঙ্গা রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, আদালতে শুনানির সময় শিশুটি অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে তার ওপর চলা নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছিল। সে আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছিল যেন অপরাধী ব্যক্তিটি বৃদ্ধ হওয়া পর্যন্ত কারাগারেই থাকে। বিচারক তার চিঠিতে শিশুটিকে আশ্বস্ত করে জানান যে তার সেই আরজি অক্ষরে অক্ষরে রাখা হয়েছে। আদালত ওই অপরাধীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন, যার ফলে সে আর কখনো মুক্ত বাতাসে ঘুরে বেড়াতে পারবে না এবং কারাগারেই তার জীবনাবসান ঘটবে।

বিচারক তার চিঠিতে শিশুটিকে অসীম সাহসী এক কিশোরী হিসেবে অভিহিত করে বলেন, সে চুপ না থেকে নিজের মায়ের কাছে সত্য প্রকাশ করেছিল বলেই আজ অন্য শিশুরা সুরক্ষিত রয়েছে। আদালত তার শৈশব ফিরিয়ে দিতে না পারলেও অপরাধীকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে পেরেছে। এই বার্তা পাওয়ার পর শিশুটিকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিচারক বলেছেন, সে যেন স্কুলে যায়, নতুন বন্ধু তৈরি করে এবং হাসিখুশিভাবে তার ভবিষ্যৎ গড়ে তোলে।

দিল্লি হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট জেলা আইনি সেবা কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্ষতিপূরণের অর্থসহ বিচারকের এই চিঠি শিশুটির পরিবারের হাতে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পকসো আইনের আওতায় পরিচালিত এই মামলায় অভিযুক্ত সুমিত শাক্যকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। উচ্চ আদালতের বিচারপতিরা বিচারিক আদালতের এই উদ্যোগকে ভূয়সী প্রশংসা করে একে সাহসের এক অনন্য বার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।