আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির তীব্র সংকটের মধ্যে বাংলাদেশ বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়েছে। বিশ্বের অন্যতম প্রধান এলএনজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি থেকে আগামী নভেম্বর মাস পর্যন্ত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি পাওয়া যাবে না বলে জানা গেছে। মূলত তাদের নিজস্ব উৎপাদন ও রপ্তানি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কাতারএনার্জির পক্ষ থেকে এলএনজি রপ্তানি প্রায় ৯৬ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এই আকস্মিক ঘাটতির কারণে শীতকালকে সামনে রেখে ইউরোপ এবং এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সীমিত পরিমাণ গ্যাস সংগ্রহের প্রতিযোগিতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর ফলে বাংলাদেশসহ এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলো জ্বালানি আমদানিতে মারাত্মক বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।
দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্পকারখানার উৎপাদনে গ্যাসের চাহিদা মেটাতে এলএনজি আমদানির বিকল্প নেই। কিন্তু কাতার থেকে নিয়মিত চালান বন্ধ থাকায় দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। ইতোমধ্যে সরকারের নীতিনির্ধারক মহল বিকল্প উৎস থেকে চড়া দামে হলেও জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, যদি দ্রুত বিকল্প কোনো ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করা না যায়, তবে আসন্ন মাসগুলোতে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সার কারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। সার্বিক এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণের ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
