পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত বেলুচিস্তান প্রদেশে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর চালানো টানা অভিযানে ৭১ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে যে সাম্প্রতিক সময়ে চালানো এই বিশেষ সামরিক অভিযানে প্রচুর পরিমাণে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়েছে। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, নিহত এসব ব্যক্তিরা প্রতিবেশী দেশ ভারত ও আফগানিস্তানের প্রত্যক্ষ মদতপুষ্ট হয়ে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। তবে এই ধরনের গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ভারত বা আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে পাকিস্তানের দাবিকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যার অংশ হিসেবে আফগানিস্তান জানিয়েছে তাদের ভূখণ্ডেও পৃথক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। কাবুলের দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তান সীমান্ত পেরিয়ে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় নুরিস্তান প্রদেশে প্রবেশকারী তথাকথিত দায়েশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ২৮ জনকে হত্যা করা হয়েছে এবং আরও ৩২ জনকে আহত করা হয়েছে। তবে আফগানিস্তানের এই সামরিক তৎপরতা এবং সংশ্লিষ্ট দাবিগুলো সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই অভিযোগগুলোকে হাস্যকর, ভিত্তিহীন ও সম্পূর্ণ অসত্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটিতে সন্ত্রাসী হামলার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার পেছনে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর উসকানি রয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছে ইসলামাবাদ। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রপন্থী বাহিনী আফগানিস্তান ত্যাগ করার পর এবং তালেবান পুনরায় ক্ষমতা গ্রহণের পর পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে জঙ্গি হামলা অনেক মাত্রায় বেড়ে গেছে। এই হামলার একটি বড় অংশের পেছনে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি নামক সন্ত্রাসী জোটের হাত রয়েছে বলে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হচ্ছে। এমনকি আফগান তালেবান সরকার তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে টিটিপিকে কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দিচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেছে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ।
তবে কাবুলের বর্তমান প্রশাসন পাকিস্তানের এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে এবং তাদের মাটি ব্যবহার করে কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অনুমতি দেওয়া হয় না বলে দাবি করেছে। এর আগে আফগানিস্তান থেকে আসা ড্রোন শনাক্ত করার পর দেশটির কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থানে বিমান ও ড্রোন হামলা চালায় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী। ইসলামাবাদ এই বিমান হামলাগুলোকে সুনির্দিষ্ট ও পরিমিত পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে আফগান তালেবানকে অবিলম্বে বৈরী তৎপরতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আফগান ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত সব ধরনের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়ে আসছে পাকিস্তান সরকার।
