দেশের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় সংসদে ইসলাম ধর্মের অন্যতম দুটি প্রধান স্তম্ভ নামাজ এবং যাকাত সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছে। সম্প্রতি সংসদীয় কার্যক্রমে অংশ নিয়ে সংশ্লিষ্ট একটি মহলের পক্ষ থেকে সংবিধানে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টি পুনর্বহালের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় সারা দেশে যথাযথভাবে নামাজ কায়েম এবং বাধ্যতামূলক যাকাত ব্যবস্থা চালুর সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করা হয়। সংসদ সদস্যদের একটি অংশের এই দাবিকে কেন্দ্র করে সংসদীয় আঙিনায় বেশ জোরালো আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রস্তাব উত্থাপনকারী সংসদ সদস্যরা তাদের বক্তব্যে যুক্তি তুলে ধরে বলেন যে, দেশের গরিষ্ঠসংখ্যক মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতিফলন ঘটাতেই সংবিধানে এই মৌলিক পরিবর্তনগুলো আনা অত্যন্ত জরুরি। তারা মনে করেন, ব্যক্তিগত পর্যায়ের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলামী বিধানসমূহের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে সমাজ থেকে বৈষম্য ও অনৈতিকতা বহুলাংশে হ্রাস পাবে। বিশেষ করে যাকাতভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে দরিদ্র বিমোচন এবং সম্পদ বৈষম্য দূর করার ওপর তারা বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। অতীতেও বিভিন্ন সময় ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষায় সংবিধানে নানা সংশোধনী আনা হয়েছিল এবং সেটির ধারাবাহিকতাই এই নতুন দাবি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে যাকাত বোর্ড গঠন কিংবা নির্দিষ্ট কাঠামোর মাধ্যমে জাকাত সংগ্রহ ও বিতরণের বিষয়টি অতীতেও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হয়েছে, যা এবার সরাসরি সংসদীয় মঞ্চে উচ্চারিত হলো। প্রস্তাবের সমর্থক সংসদ সদস্যরা দাবি করছেন যে, একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্র গঠনে জাকাত ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে পারে। এর ফলে দেশের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং অর্থনৈতিক সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তবে এই ধরনের বড় নীতিগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দেশের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার বিষয়টিও গভীরভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জাতীয় সংসদে উত্থাপিত এই প্রস্তাবের বিষয়ে অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার সমতায় পরিচালিত হওয়ায় এই ধরনের প্রস্তাব বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আইনি ও তাত্ত্বিক নানা দিক পর্যালোচনার প্রয়োজন হবে। তবে সংসদীয় বিতর্কে এই দাবি ওঠার ফলে আগামী দিনে ধর্মীয় বিধান বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আরও বড় পরিসরে আলোচনা শুরু হতে পারে। এখন দেখার বিষয় সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা এই প্রস্তাবটিকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন এবং ভবিষ্যতে এটি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে কি না।
