বরগুনার আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের গোডাঙ্গা প্রবাহমান খালে মাছ চাষের প্রতিবাদে মানববন্দন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকার কৃষক ও ভুক্তভোগিরা।
জানাগেছে, এলাকার প্রভাবশালীরা গোডাঙ্গা শ্লুইজগেট থেকে ২০ফুট দুরে ঘনজালের নেট দিয়ে খালের মধ্যে বেড়া দিয়ে মাছ চাষের কার্যক্রম শুরু করেছেন।
ঘনজালের বেড়া দেওয়ায় প্রবাহমান খালের পানি ওঠা নামা কমেগেছে। পানি ওঠা নামা কমে যাওয়ায় এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগি ও কৃষকরা জানান, এই খালের পানি দিয়ে তারা কৃষিকাজসহ পারিবারিক কাজ করে থাকেন ও খালের দুই পাড়ের বসবাসরত পরিবারগুলো পারিবারিক গৃহস্তলির কাজ ও গরু ছাগলের গোসলসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে থাকেন এবং দুপাগেড় বসবাসরত পরিবারগুলোর মধ্যে অনেকে এই খাল থেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন।
সম্প্রতি শ্লুইজগেট থেকে ২০ফুট দুরে ঘনজালের নেট দিয়ে খালের মধ্যে বেড়া দিয়ে মাছ চাষ শুরু করেছেন। এতে কৃষকসহ খালের পাড়ের বসবাসরত ভুক্তভোগিরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন । তারা দ্রুত এই প্রবাহমান খালে মাছ চাষ বন্দ করার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবী জানান। সোমবার দুপুর ১ টায় গোডাঙ্গা খালের পাড়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু জাফর মিয়ার সভাপতিত্বে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে বক্তাব্য রাখেন, ভুক্তভোগি জালাল হাওওলাদার, মো. হারুন তালুকদার, আলতাফ হোসেন. নোহরাফ হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন, মাফিয়া বেগম ও মরিয়ম বেগম প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, এই খালে মাছ চাষ করা হলে আমাদের ভোগান্তির কোন শেষ থাকবেনা। আমাদের বেচে থাকার কোন উপায় থাকবেনা।ভুক্তভোগি মো. হারুন তালুকদার বলেন, স্থানীয় জাহিদুল ইসলাম মাষ্টারের তত্তাবধায়নে কিছু প্রভাবশালী খালের মধ্যে নেট দিয়ে বেড়া দিয়ে মাছ চাষ শুরু করেছেন।যার কারনে এলাকার কৃষকসহ সাধারন মানুষের ভোগের কোন শেষ থাকবেনা।কৃষক জাহাঙ্গির হোসেন বলেন এই খালে মাছ চাষ করা হলে আমাদের বেচে থাকার কোন উপায় থাকবে না এই খালে পানি দিয়ে আমরা ইইর বোরো ও রবি মৌসুমে ফসল ফলিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবন নির্বাহ করে থাকি। সহিদ হাওলাদার নামে এক ভুক্তভোগি জানান,খালে মাছ চাষ করার প্রতিবাদ করায় প্রভাবশালী জাকির হোসেন আমার বৃদ্ধ মাকে মারধোর করেছে। আমি এঘটনার বিচার চাই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আবু জাফর বলেন, শতশত কৃষকের ক্ষতি হবে এই খালের মাছ চাষ বন্দ করার জন্য প্রশাসনের উচ্চমহলের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করি। যদি প্রশাসন দ্রুত গতিতে মাছ চাষ কার্যক্রম বন্দ না করেন জনসাধারনের সুবিদার জন্য তাদেরকে সাথে নিয়ে কঠোর আন্দোলন শুর করা হবে।
এবিষয় মো. জাহিদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে মুঠোফোনে তিনি তার বিরুদ্ধে মাছ চাষের অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন, আমি এর সাথে জড়িত নাই। আফজাল মৃধা নামক জনৈক ব্যাক্তি ইজারা নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেছেন। মাছ চাষের কারনের এলাকাবাসীর ক্ষতি হবে কেনো বরং উপকার হচ্ছে। এই খালটি কচুরি পানায় ভরপুর ছিলো খালের পানি কেহ ব্যবহার করতে পারতোনা। মশা মাছির কারখানা ছিল খালটি পরিস্কার করায় এখন সাধারন মানুষ খালে পানি ব্যবহার করতে পারবে।
এবিষয় আমতলী উপজেলাসহকারী কমিশনার ভুমি মো. আশরাফুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
