ঢাকা ,
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. অস্ট্রেলিয়া
  4. আইন আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলাম
  7. কৃষি
  8. খেলাধুলা
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. নেদারল্যান্ডস
  12. পর্যটন
  13. বিনোদন
  14. মতামত
  15. মেক্সিকো
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ষড়যন্ত্রের জালে আমতলী সদর ইউপির প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাকির, তদন্তে মেলেনি সত্যতা

এসএম নাসির মাহমুদ আমতলী( বরগুনা) প্রতিনিধি
অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১:৪৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 

বরগুনার আমতলীতে সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ট্যাক্স ও রাজস্বের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিভিন্ন অনলাইন ও দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সাথে বাস্তবতার কোন মিল নেই বলে দাবি করেছেন তিনি। তার দাবি, একটি মহল অসৎ উদ্দেশ্যে তাকে সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে।

জাকির হোসেন জানান, আঠারগাছিয়া ইউনিয়নে তার বিরুদ্ধে আনা আর্থিক অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. আসাদুর রহমানের নেতৃত্বে তদন্ত হয়েছে। তদন্তকালে ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রিপন উপস্থিত ছিলেন। সেই তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদের সকল আয়-ব্যয়ের নির্বাহী ক্ষমতা ইউপি চেয়ারম্যানের। প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে এককভাবে কোন অর্থ ব্যয় করার ক্ষমতা আমার নেই। সকল টাকা একই চেকের মাধ্যমে প্রাপককে প্রদান করা হয়েছে।

অন্যদিকে গুলিশাখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পলাতক থাকায় ওই ইউনিয়নের তদন্ত এখনও সম্পন্ন হয়নি বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা আসাদুর রহমান।

আমতলী সদর ইউনিয়নের ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্সের টাকা আত্মসাতের অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন জাকির হোসেন। তিনি জানান, বিষয়টি বর্তমানে আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল এর অধীনে তদন্তাধীন রয়েছে।

সাক্ষাতে জাকির হোসেন বলেন, “আমি চলতি বছরের ৫ এপ্রিল আমতলী সদর ইউনিয়নে যোগদান করি। গত ৭ মাসে ট্যাক্স বাবদ ১৭,৮০০ টাকা এবং ট্রেড লাইসেন্স বাবদ ১,২৬,৫০০ টাকা আদায় হয়েছে। এর মধ্যে ৬১,০০০ টাকা এবং ভ্যাট বাবদ ১৮,৯৭৫ টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছে, যার জমা স্লিপ আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। বাকি টাকা দিয়ে পরিষদের রঙের কাজ, আইপিএস, কলাপসিবল গেট মেরামত এবং জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহোদয়ের মিটিংয়ের আপ্যায়নে খরচ করা হয়েছে, যার ভাউচারে বর্তমান ইউপি প্রশাসক, আমি ও প্যানেল চেয়ারম্যানের যৌথ স্বাক্ষর এবং সকল মেম্বারদের সম্মতি রয়েছে।”তিনি প্রকাশিত মিথ্যা সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

এ বিষয়ে ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মাসুদ তালুকদার বলেন, “বর্তমান প্রশাসনিক কর্মকর্তা ৭ মাস ধরে আমাদের ইউনিয়নে আছেন। ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্সের টাকা অফিসে যা আদায় হয়েছে তা তিনি ব্যাংকে জমা দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

৮ নং ওয়ার্ডের সমাজসেবক মাসুম বিল্লাহ বলেন, “বর্তমান কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা আসলে পূর্বের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নিজামদ্দিনের বিরুদ্ধে, তিনি ট্যাক্সের প্রায় চার লাখ টাকা নিয়ে চলে গেছেন, যার কোন সুরাহা আজও হয়নি।

২ নং ওয়ার্ডের মেম্বার ও বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান- ২ মো. তাপস খান বলেন, “জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি আসার পর গত ৭মাসে জনগণের ভোগান্তি অনেক কমেছে। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে নিয়মিত অফিস করায় পরিষদের কার্যক্রমে গতি ফিরেছে।

এ বিষয়ে আমতলী সদর ইউনিয়নের প্রশাসক ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মঞ্জুরুল হক কাওসার বলেন, “আমি চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল যোগদানের পর প্রথম সভায় আয়-ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন করি। প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান বিষয়টি তার দেখার এখতিয়ার এবং টাকা প্যানেল চেয়ারম্যানের কাছে জমা দিবেন বলে জানান। প্রশাসক হিসেবে আমার দায়বদ্ধতা থাকায় সুস্ঠু জবাবদিহিতার স্বার্থে আমি বিষয়টি ইউএনও মহোদয়কে অবহিত করেছি।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে।