ফিচার ডেস্ক: পরিসংখ্যান বা সংখ্যাতত্ত্ব সবসময় সত্য কথা বললেও মাঝেমধ্যে আমাদের এমন এক বিভ্রান্তির মুখে ফেলে দেয়, যা আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব বলে মনে হয়। গণিত ও পরিসংখ্যানের এই অদ্ভুত জটিলতাকে বিজ্ঞানের ভাষায় সিম্পসনস প্যারাডক্স বলা হয়ে থাকে। এই বিশেষ পরিস্থিতিতে দুটি আলাদা উপাত্তে এক ধরনের প্রবণতা দেখা যায়, কিন্তু সেই উপাত্তগুলো একত্র করা হলে পুরো চিত্রটাই উল্টে যায়।
এই জটিল বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি সহজ উদাহরণ বিবেচনা করা যেতে পারে। ধরা যাক, দুটি আলাদা হাসপাতাল রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছে এবং তাদের সাফল্যের হার তুলনা করা হচ্ছে। সেখানে দেখা যেতে পারে যে হাসপাতাল এ অপেক্ষাকৃত সহজ বা কম জটিল রোগীদের চিকিৎসা করে, অন্যদিকে হাসপাতাল বি-তে তুলনামূলকভাবে অত্যন্ত গুরুতর ও জটিল রোগীদের পাঠানো হয়।
রোগীর শারীরিক অবস্থার এই গুরুতর তারতম্য না বুঝে যদি কেবল সামগ্রিক সাফল্যের হারের ওপর ভিত্তি করে হাসপাতাল দুটির তুলনা করা হয়, তবে ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ঝুঁকি তৈরি হয়। এই ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ তো বটেই, অনেক সময় অভিজ্ঞ গবেষক ও বিশ্লেষকরাও সংখ্যাতত্ত্বের এই গোলকধাঁধায় পড়ে ভুল ধারণা পোষণ করেন।
তাই যেকোনো পরিসংখ্যানগত তথ্য বা গবেষণার ফলাফল অন্ধভাবে বিশ্বাস করার আগে তার পেছনের অন্তর্নিহিত গঠন ও প্রেক্ষাপট ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সংখ্যা কখনো মিথ্যা বলে না সত্যি, কিন্তু সঠিকভাবে সাজানো বা ব্যাখ্যা না করা হলে তা মানুষের মনে সত্যের বদলে গভীর ধোঁকা তৈরি করতে পারে।
