জাতীয় ডেস্ক: বাংলাদেশ সফরে এসে রাজধানীর জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর সশরীরে পরিদর্শন করেছেন ইউনেসকোর প্রতিনিধিদলের প্রধান ড. সুসান ভাইজ। সম্প্রতি দুপুরে একটি প্রতিনিধিদলসহ তিনি এই ঐতিহাসিক জাদুঘরটিতে উপস্থিত হন। সেখানে পৌঁছানোর পর ইউনেসকোর প্রতিনিধিদলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান জাদুঘরের মহাপরিচালক এহ্সান মাহমুদ। পরে উভয়ের মধ্যে একটি ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দেশের শিক্ষা, গবেষণা ও সংস্কৃতি নিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরে দেখার সময় সুসান ভাইজ ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসের সংঘাতময় দিনগুলোর নানা ঐতিহাসিক দলিল ও স্মারক গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, এই সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত প্রতিটি নথি ও উপাদান সেই সময়ের বাস্তব চিত্র ও ঘটনার অত্যন্ত শক্তিশালী সাক্ষ্য বহন করছে। একই সঙ্গে বিগত আন্দোলনে যাঁরা প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন এবং যাঁদের পরিবার স্বজন হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে তিনি এই ঐতিহাসিক দলিলগুলো যথাযথ ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে সংরক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
পরিদর্শন শেষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় জাদুঘরের মহাপরিচালক এহ্সান মাহমুদ এই প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, জুলাই জাদুঘরকে কেবল সাধারণ দর্শনার্থীদের ঘোরার জায়গা হিসেবে সীমিত রাখতে চান না, বরং এটিকে ইতিহাস চর্চা, ঐতিহ্য রক্ষা এবং গবেষণার একটি বড় ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তুলতে আগ্রহী তাঁরা। এই মহৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনেসকোর সঙ্গে একযোগে কাজ করার প্রবল আগ্রহের কথা জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ইউনেসকো বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের এই গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শনের সময় অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংস্থাটির শিক্ষা বিভাগের প্রধান নরিহিদি ফুরুকাওয়া এবং সংস্কৃতি প্রধান কিযী তাহনিন। আন্তর্জাতিক মহলের এমন সম্পৃক্ততা এবং সহযোগিতার আশ্বাস জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাসকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
