জাতীয় ডেস্ক: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে এক স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার পলাশী চত্বরে অবস্থিত আগ্রাসনবিরোধী আট স্তম্ভের পাদদেশে আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে তারা আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের রায় দ্রুত কার্যকর করার জোরালো দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট লেখক ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেন, আবরার ফাহাদের মৃত্যুর ঘটনাটি কেবল মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, এর পেছনে ছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলা নির্মম নির্যাতন ও ফ্যাসিবাদের আসল রূপ। তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের জন্য তরুণ প্রজন্মকে আরও গভীর পড়াশোনা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণের পরামর্শ দেন। এছাড়া ফ্যাসিবাদী আমলের পুরোনো রাষ্ট্রকাঠামো বহাল রেখে প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম তার বক্তব্যে বলেন, দেশকে ভেতর থেকে পুরোপুরি স্বাধীন করার লড়াই এখনো শেষ হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের রাজনৈতিক সচেতনতা ও মানসিকতা ঔপনিবেশিক প্রভাবমুক্ত না হলে দেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে। শহীদ আবরার ফাহাদের আত্মত্যাগ সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল উল্লেখ করে তিনি জাতীয় সম্পদ রক্ষা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, আবরার ফাহাদ সবসময় জাতীয় মর্যাদা ও নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। দিল্লির আধিপত্যের বিরুদ্ধে তার আপসহীন অবস্থান জাতিকে নতুন পথ দেখিয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। স্মরণসভায় অন্য বক্তারাও দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আবরার হত্যার চূড়ান্ত রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান এবং জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে দেশ গড়ার ওপর জোর দেন।
