কক্সবাজারের জনপ্রিয় প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত এবং ভ্রমণের ক্ষেত্রে পূর্বে জারিকৃত কঠোর নীতিমালায় কিছু পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত প্রশাসন বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দ্বীপের পরিবেশ রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের দোহাই দিয়ে পর্যটকদের চলাচলের ওপর নানা ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সেই বিধিমালাগুলো পুনর্বিবেচনা করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যা পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
নতুন এই নীতিমালার আওতায় পর্যটকদের ভ্রমণের সময়সীমা এবং দ্বীপে রাত্রিযাপনের নিয়মে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে পর্যটকদের যাতায়াত সীমিত করার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের বেশি অবস্থান নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, যার ফলে স্থানীয় অর্থনীতি এবং পর্যটন ব্যবসা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছিল। সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে, নতুন সংশোধিত নিয়মে পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি অক্ষুণ্ণ রেখেই পর্যটকদের যাতায়াত প্রক্রিয়া অনেকটাই সহজতর করা হবে।
পরিবেশবাদী ও গবেষকদের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে বিগত সময়ে সেন্টমার্টিনে অতিরিক্ত পর্যটক সমাগম রোধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হলেও সাধারণ পর্যটক ও ট্যুর অপারেটররা এতে বিপাকে পড়েন। অনেকেই মনে করছেন, অপরিকল্পিত পর্যটন যেমন দ্বীপটির সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ, তেমনি এই খাতের সাথে জড়িত লাখো মানুষের জীবন-জীবিকাও উপেক্ষা করার মতো নয়। তাই সরকার এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতিমালা প্রণয়নের কথা ভাবছে, যা পরিবেশের ক্ষতি না করেও পর্যটন শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখবে।
খুব শীঘ্রই সরকারের পক্ষ থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপের নতুন ভ্রমণ নির্দেশিকা বা নীতিমালা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে পর্যটকদের জন্য নির্দিষ্ট কোটা, জাহাজের চলাচল এবং পরিবেশগত ফি নির্ধারণের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা থাকতে পারে। এই পরিবর্তনের ফলে পর্যটকরা আগের চেয়ে কিছুটা নমনীয় শর্তে প্রবাল দ্বীপে ভ্রমণ করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
