মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে প্রায় ৫০৭ কোটি টাকা অসম্ভব অঙ্কের বিল পাঠানোর ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছিল। সাধারণ গ্রাহকের হাতে এমন অবাস্তব ও হয়রানিমূলক বিল পৌঁছানোর পর নড়েচড়ে বসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নজিরবিহীন এই গাফিলতির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দায়ী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ও তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার দায়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসের মহাব্যবস্থাপককে (জিএম) তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কাণ্ডজ্ঞানহীন ভুল কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। বরখাস্তের এই আদেশের মধ্য দিয়ে সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
অস্বাভাবিক এই বিলের কারণে ভুক্তভোগী গ্রাহক যে চরম মানসিক ও আর্থিক দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়েছিলেন, তার সম্পূর্ণ দায় স্বীকার করে দুঃখপ্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী। তিনি ব্যক্তিগতভাবে ওই গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং এই অনভিপ্রেত ঘটনার জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা চান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের চরম অসঙ্গতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও বেশি সতর্ক থাকার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গ্রাহকদের সেবামূলক কার্যক্রমে এ ধরনের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ নজরদারি আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কীভাবে এই বড় অংকের ভুল বিল তৈরি হলো এবং এর পেছনে অন্য কোনো অন্তর্ঘাত বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর জড়িত অন্য সহযোগীদের বিরুদ্ধেও যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
