কৃষক কার্ডধারীদের জন্য সরকারি প্রণোদনার অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এই বিশেষ কার্ডের বিপরীতে পাওয়া আর্থিক সহায়তা দিয়ে অনুমোদিত ডিলার পয়েন্ট থেকে কেবল সার, উন্নত বীজ এবং অন্যান্য জরুরি কৃষি উপকরণই সংগ্রহ করা যাবে। কৃষি খাতের আধুনিকায়ন এবং কৃষকদের সরাসরি সহায়তার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকেরা।
কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্বোধনী দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় এক লাখ নিবন্ধিত কৃষক আড়াই হাজার টাকা করে সরকারি প্রণোদনা পেয়েছেন। এর আগে পরীক্ষামূলক প্রকল্পের অংশ হিসেবে টাঙ্গাইলে কার্ড বিতরণের সফল সমাপ্তি ঘটেছিল, যেখানে প্রায় একুশ হাজার কৃষককে এই সুবিধার আওতায় আনা হয়েছিল। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পার্টনার প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে সারা দেশে বর্তমানে কৃষকদের নিবন্ধনের কাজ চলছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে ১৮ লাখের বেশি কৃষক নিজেদের নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। তবে উদ্বোধনী দিনে আংশিক কৃষকদের হাতে কার্ডের হার্ড কপি পৌঁছালেও বাকিদের ক্ষেত্রে বিকল্প উপায়ে প্রণোদনা বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। সোনালী ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক এবং জনতা ব্যাংকের সহযোগিতায় পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি ব্লকের কৃষকদের এই কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা হবে। যাদের হাতে তাৎক্ষণিকভাবে কার্ড পৌঁছাবে না, তাদের জন্য কিউআর কোড ব্যবহারের মাধ্যমে ডিলার পয়েন্ট থেকে উপকরণ কেনার সুযোগ রাখা হয়েছে।
কৃষক কার্ড জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কার্ডের অনুপস্থিতিতেও কিউআর কোড ব্যবহার করে কৃষকেরা সহজে তাদের প্রয়োজনীয় বীজ ও সার সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে যেসব এলাকায় পিওএস বা পয়েন্ট অব সেল মেশিন পৌঁছায়নি, সেখানে অর্থ উত্তোলনের প্রক্রিয়া নিয়ে কিছুটা জটিলতা রয়েছে। তা সত্ত্বেও কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়ন এবং কৃষকদের দোরগোড়ায় সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে এই ডিজিটাল কার্ড যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
