ঢাকা ,
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. অস্ট্রেলিয়া
  4. আইন আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলাম
  7. কৃষি
  8. খেলাধুলা
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. নেদারল্যান্ডস
  12. পর্যটন
  13. বিনোদন
  14. মতামত
  15. মেক্সিকো
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দুস্থদের অনুদানের তালিকায় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীসহ বিত্তবান নেতাদের নাম, এমপি বলছেন তাঁরা পাওয়ার যোগ্য

Malaysia
সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ৬:৪৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নাটোর-৪ আসনে দুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি অনুদানের অর্থ দলীয় নেতা-কর্মী এবং বিত্তবানদের মধ্যে বিতরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দের আওতায় গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম উপজেলায় এই অর্থ দেওয়া হয়েছিল। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও দরিদ্র মানুষ এই সহায়তার প্রধান দাবিদার হলেও, প্রকৃত দুস্থদের বাদ দিয়ে সচ্ছল ব্যক্তিদের এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তালিকাটিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের নামও রয়েছে। অথচ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এই ধরনের বিশেষ অর্থ পাওয়ার কথা কেবল চরম দুর্দিনে থাকা হতদরিদ্র মানুষের। এ ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে এবং প্রকৃত দুস্থদের বাদ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বড়াইগ্রাম উপজেলায় জোনাইল ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুস সালাম ফকিরের নামেও অনুদানের অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল। তবে তিনি ও বড়াইগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জাহিদুল হাসান বিপুল দাবি করেছেন যে তাঁরা এই বরাদ্দের বিষয়ে কিছুই জানতেন না এবং কোনো অর্থ নেননি। অন্যদিকে, নগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি তরাত মণ্ডল ও গুরুদাসপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আরিফুল ইসলাম রবিউলসহ বেশ কয়েকজন নেতা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে টাকা তোলার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, এটি কার অনুদান ছিল তা তাঁরা জানতেন না, বরং সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহায়তা ভেবে টাকা তুলেছিলেন। ফলে সরকারি ত্রাণ বিতরণের এই প্রক্রিয়ায় চরম অনিয়ম ও জবাবদিহিতার ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

গত ২২ সেপ্টেম্বর বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ৯৮ জন উপকারভোগীর মধ্যে এই অনুদানের অর্থ বিতরণ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওই অনুষ্ঠানে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ১২টি পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হলেও বাকি ৮৬ জনের তালিকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। একইভাবে গুরুদাসপুর উপজেলাতেও ৭০ জন ব্যক্তির প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে সরকারি অনুদান দেওয়া হয়। সেখানেও বিত্তবান ও রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যক্তিরা এই সুবিধা ভোগ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

তালিকায় নাম থাকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আমিনুর রশীদ জানিয়েছেন, এটি সংসদ সদস্যের বিশেষ বরাদ্দ হওয়ায় এর তালিকা ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজটি সংসদ সদস্য নিজেই করেছেন। এ বিষয়ে নাটোর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ কে এম শাহা আলম মোল্লা স্পষ্ট করেছেন যে, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দুস্থ ও অসহায় মানুষই এ সহায়তার প্রকৃত হকদার। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ দাবি করেছেন যে, দলের ভেতরেও অনেক অসহায় মানুষ রয়েছেন এবং সবকিছু ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করেই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, যাঁদের নাম তালিকায় রয়েছে কিন্তু টাকা তুলবেন না, সেই অর্থ পরবর্তীতে প্রকৃত দুস্থদের মাঝে বণ্টন করা হবে।