দক্ষিণ কোরিয়ান জনপ্রিয় সংগীত ব্যান্ড বিটিএসের আকর্ষণে ঘর ছেড়ে ভিনদেশে পাড়ি জমানোর পরিকল্পনা করেছিল পাবনার তিন কিশোরী। পরিবার ও বিদ্যালয়কে না জানিয়ে নিরুদ্দেশ হওয়া এই অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণীদের নিয়ে দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় কুড়িগ্রাম জেলা থেকে তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই কিশোরীদের অবস্থান শনাক্ত করতে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তল্লাশি অভিযان চালিয়ে কুড়িগ্রামের একটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে তাদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিটিএসের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত আসক্ত হয়ে তারা এই বিপজ্জনক পথ বেছে নিয়েছিল।
উদ্ধারের পর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সম্প্রতি দুপুরে থানা চত্বরে কিশোরীদের অভিভাবকদের হাতে সঁপে দেওয়া হয়। পরিবারের কাছে ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন অভিভাবকরা এবং সন্তানদের এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ থেকে দূরে রাখতে সমাজের সর্বস্তরের সচেতনতা কামনা করেন। মনোবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, কিশোর বয়সে এ ধরনের মানসিক বিভ্রান্তি রোধে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আরও বেশি নজরদারি প্রয়োজন।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর অভিভাবকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বর্তমান যুগে ইন্টারনেট ও বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাবে কমবয়সী ছেলেমেয়েরা কীভাবে প্রভাবিত হচ্ছে, তা নিয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিশোর-কিশোরীদের অনলাইন কার্যক্রমের ওপর অভিভাবকদের যথাযথ তদারকি না থাকলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকে।
