বেলজিয়ামের কাছে আগের ম্যাচে হারের হতাশা কাটিয়ে উয়েফা নেশনস লিগের লড়াইয়ে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ইতালি। ইউরোপিয়ান ফুটবলের এই প্রতিযোগিতায় নিজেদের হারিয়ে যাওয়া ছন্দ ফিরে পেতে মরিয়া ছিল রবার্তো মানচিনির দল। তুরস্কের বিপক্ষে এই ম্যাচে শুধু তিন পয়েন্ট অর্জনই লক্ষ্য ছিল না, বরং সামনের কঠিন লড়াইগুলোর আগে নিজেদের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়াও ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। আর মাঠে নেমে সেই দায়িত্ব দারুণভাবে পালন করেছেন ইতালিয়ান ফুটবলাররা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণে আধিপত্য বিস্তার করে ইতালির আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা তুরস্কের রক্ষণভাগে তীব্র চাপ সৃষ্টি করেন। আগের ম্যাচের একাদশে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে আটটি নতুন মুখ মাঠে নামান কোচ মানচিনি, যা দলের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। ম্যাচের প্রথমার্ধেই নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে একের পর এক আক্রমণ চালায় আজ্জুরিরা। ফলে ম্যাচের প্রথম ত্রিশ মিনিটেই তিনবার প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের মুঠোয় নিয়ে নেয় তারা।
খেলার নবম মিনিটে কর্নার কিক থেকে আসা বল তুরস্কের রক্ষণভাগ ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে সুযোগ বুঝে জোরালো শটে প্রথম গোলটি করেন আলেসান্দ্রো বাস্তোনি। এর কিছুক্ষণ পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মিডফিল্ডার দাভিদে ফ্রাত্তেসি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই অভিষেক ম্যাচ রাঙিয়ে তোলেন তরুণ ডিফেন্ডার মাইকেল কায়োদে, যিনি দারুণ এক শটে দলের তৃতীয় গোলটি করেন। বিরতির পরপরই ম্যাচের পঞ্চাশতম মিনিটে স্কোরশিটে নাম লেখান ফ্রান্সিসকো এসপোসিতো।
এই ম্যাচটি এসপোসিতো পরিবারের জন্য এক ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে। কারণ, ইতালির জাতীয় দলের হয়ে একই ম্যাচে মাঠে নেমে একসঙ্গে খেলার বিরল কীর্তি গড়েছেন ফ্রান্সিসকো ও তাঁর ভাই সেবাস্তিয়ানো এসপোসিতো। এর আগে ইতালির জার্সিতে এমন সাফল্যের দেখা মিলেছিল প্রায় দুই যুগ আগে। এই দুই ভাইয়ের একসঙ্গে মাঠে নামার ঘটনা ইতালিয়ান ফুটবলের দীর্ঘ ইতিহাসে মাত্র চতুর্থবারের মতো ঘটল, যা ম্যাচটিকে আরও বেশি বিশেষ করে তুলেছে।
ম্যাচের প্রথমার্ধের শুরুতে তুরস্কের পক্ষে বারিস ইলমাজ একটি গোল শোধ দিলেও তা ইতালির জয় আটকাতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে তুরস্ক কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও ইতালির জমাট রক্ষণভাগ আর কোনো বিপদ হতে দেয়নি। শেষ পর্যন্ত চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানের জয় নিয়ে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই মাঠ ছাড়ে।
