বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ দিন দিন আরও মারাত্মক রূপ ধারণ করছে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সংক্রমণের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি একদিনের ব্যবধানে দুই হাজারেরও বেশি নতুন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হয়েছেন, যা চলতি বছরে সর্বোচ্চ সংক্রমণের একটি নতুন মাইলফলক। স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্টরা এই পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং পরিস্থিতি মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপের ওপর জোর দিচ্ছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা প্রায় চুয়াত্তর হাজারে এসে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে আশার কথা হলো, চিকিৎসকদের প্রচেষ্টায় ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী সুস্থ হয়ে নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন এবং চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ রোগীর হার নারীদের তুলনায় কিছুটা বেশি এবং আক্রান্তদের বড় একটি অংশ রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকার বাসিন্দা। তবে কেবল ঢাকা বিভাগেই নয়, বরং চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলাগুলোতেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে ঢাকার পাশাপাশি মফস্বল এলাকার হাসপাতালগুলোতেও রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি বছরের মে মাস থেকেই মূলত ডেঙ্গু সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে এবং প্রতি মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিগত মাসগুলোর তুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে মৃত্যুর হার এবং আক্রান্তের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এই অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও নগরবাসীর সম্মিলিত সচেতনতা ছাড়া ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা অত্যন্ত দুরূহ হবে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
